হাম (Measles): সামান্য জ্বর-ঠাণ্ডা ভেবে ভুল করবেন না! ![]()
হাম সাধারণ কোনো চর্মরোগ নয়; এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং মারাত্মক ভাইরাল সংক্রমণ। সঠিক সচেতনতা ও সঠিক সময়ে টিকা না নিলে এটি জীবনঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
হাম কেন এতো ভয়াবহ?
১. অ্যান্টিবডি ধ্বংস: হাম শরীর থেকে প্রায় ৭৫% পর্যন্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Antibody) মুছে দিতে পারে, যা শরীরকে অন্যান্য রোগের কাছে অসহায় করে তোলে।
২. অকল্পনীয় সংক্রমণ ক্ষমতা: একজন হামে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে প্রায় ১৮ জন সুস্থ মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন।
৩. অদৃশ্য বিস্তার: শরীরে র্যাশ বা লালচে দানা ওঠার আগেই এই রোগটি অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
হামের লক্ষণসমূহ
হামের ভাইরাস শরীরে ঢোকার ১০-১২ দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়। এছাড়াও নিম্নোক্ত লক্ষণ দেখা দিতে পারে:
১. তীব্র কাশি এবং হাঁচি।
২. সর্দি এবং নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া।
৩. চোখ লাল হওয়া বা চোখ ওঠা (Conjunctivitis)।
৪. সারা শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ (সাধারণত মুখমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে নিচে ছড়ায়)।
৫. উচ্চ তাপমাত্রা বা তীব্র জ্বর।
হামের জটিলতা (Complications)
হামের সঠিক চিকিৎসা না হলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে:
১. কানের ইনফেকশন: যা থেকে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে।
২. নিউমোনিয়া: হামে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।
৩. অন্ধত্ব: চোখের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
৪. মস্তিষ্কের ক্ষতি: এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহ।
ঝুঁকিতে আছেন যারা
যদিও হাম যে কারোরই হতে পারে, তবে নিচের চার শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন:
১. শিশু (বিশেষ করে যাদের বয়স ৫ বছরের কম)।
২. গর্ভবতী নারী।
৩. বৃদ্ধ বা বয়স্ক ব্যক্তি।
৪. অপুষ্টিতে ভোগা শিশু।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
চিকিৎসক সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা দেখেই হাম শনাক্ত করতে পারেন। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কিছু পরীক্ষা করা হয়:
১. রক্ত পরীক্ষা
২. নাক বা গলার সোয়াব (Swab) পরীক্ষা
৩. প্রস্রাব পরীক্ষা
চিকিৎসা পদ্ধতি:
হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ নেই, তবে সাপোর্টিভ কেয়ার খুবই জরুরি:
১. প্রচুর পানি ও তরল খাবার পান করা।
২. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া।
৩. ভিটামিন-এ সম্পূরক গ্রহণ: এটি জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।
প্রতিকার ও প্রতিরোধ
হাম থেকে বাঁচার একমাত্র কার্যকরী উপায় হলো ভ্যাকসিন।
MMR টিকা: শিশুর ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে ২ ডোজ টিকা নিশ্চিত করুন।
আলাদা রাখা: আক্রান্ত ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তিদের থেকে আলাদা রাখুন।
বুস্টার ডোজ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বুস্টার ডোজ নিন।
সতর্কতা: আপনার বা আপনার শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করুন। সচেতনতাই পারে একটি সুস্থ প্রজন্ম নিশ্চিত করতে।
